বাড়ির পুকুরে মণিপুরের মাছ ‘পেংবা’-র বাচ্চা তৈরি করে তাক লাগালেন হলদিয়ার গৃহবধূ
দি নিউজ লায়ন; পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ব্লক মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে বছর খানেক আগে হলদিয়া ব্লকে রাজ্যে প্রথম পেংবা মাছের চাষ হয়েছিল। পেংবা মাছ কেবল মনিপুরেই পাওয়া যায়, এছাড়া সারা পৃথিবীতে চিনের ইউনান প্রদেশ ও মায়ানমার দেশে দেখা মেলে। আর সেই পেংবার আমাদের রাজ্যে প্রথম পরিচিতি ঘটায় হলদিয়ার মাছ চাষিরা। মাছ চাষিদের সফল পেংবা চাষের খবর ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। মাছটি খেতেও খুব সুস্বাদু।
রুই, কাতলার সাথে মিশ্রচাষে অধিক লাভের আশায় রাজ্যের অন্যন্য মাছ চাষিরাও পেংবা চাষ শুরু করেছেন। তবে চারা পাওয়া যেত কেবল ভুবনেশ্বরে অবস্থিত মিষ্টি জল মৎস্য গবেষনা কেন্দ্রে। যদিও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হ্যাচারী মালিকরা হলদিয়া থেকে “ব্রুডার” পেংবা মাছ সংগ্রহ করে প্রজনন উদ্যোগও নেওয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে হলদিয়ারই এক গৃহবধূ বাড়ির পুকুরে পেংবা মাছের বাচ্চা তৈরি করে ফেলেছেন।
বসানচক গ্রামের বাসিন্দা এই মহিলা মৎস্যজীবির নাম বন্দিতা ভৌমিক । বাড়ির খিড়কি পুকুরেই তিনি পেংবা মাছের বাচ্চা তৈরি করেছেন। একজন গৃহবধূ বাড়ির কাজ সামলেও বাড়ির পুকুরের পরিচর্যা করে মাছ চাষ করতে পারা যায় সেটা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। শুধু বাড়ির চাহিদা মেটানোর মাছ চাষ নয়, এখন পেংবা মাছের চারা বিক্রি করে উপার্জন করছেন। গৃহবধূ বন্দিতা ভৌমিক জানান, “স্বামীর ফিশারী আছে সেখানে গিয়ে কাজে হাত লাগাই।
তাছাড়া মাছ চাষে হলদিয়া ব্লক মৎস্য দপ্তর থেকে এর আগেই প্রশিক্ষন নিয়েছি। মহিলাদের কিভাবে মাছ চাষে স্বনির্ভর হওয়া যায় সে বিষয় লাগাতার কর্মসূচী নেন হলদিয়ার ব্লকের মৎস্য আধিকারিক সুমন কুমার সাহু। সুমন বাবুর কাছে আধুনিক মাছ চাষের বিষয়ে শিখেছি”। হলদিয়ার মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ গোকুল মাজি বলেন, মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে সব প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। হলদিয়ার মৎস্য আধিকারিক সরিজমিন দেখছনে ও মৎস্য প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছেন ।

Post a Comment